গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা এবং স্থানীয় সুশাসন নিশ্চিতকরণে একটি কার্যকর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো ধারাবাহিকভাবে স্থানীয় প্রশাসন বা মাঠপ্রশাসনের অনুগ্রহভাজন ও অধস্তন অবস্থানে নিজেদের দেখে আসছে। তাই নেতৃত্বের স্বাধীন সত্তার বিকাশের বদলে একটি অধস্তনতার সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। আবার অন্যদিকে দুই-দেড় দশক ধরে অতিরাজনৈতিকীকরণের কারণে কোনো নিয়মনীতি না মানার একটি নৈরাজ্যকর সংস্কৃতির অঙ্গীভূত হতে থাকে। এ দুই প্রবণতাই সুস্থ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা বিকাশের পথে একটি সাংস্কৃতিক বিপর্যয়। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারকে কার্যকরভাবে গড়ে তোলা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন নিশ্চিতকল্পে বিভিন্ন সময়ে সাতটি কমিশন ও কমিটি গঠিত হলেও সেসব কমিশন এবং কমিটির সুপারিশ কখনই কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। ২০২৪-এর জুলাই-আগস্টে ফ্যাসিবাদবিরোধী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রের সব দুয়ার খুলে যায়। দেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ১১টি বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। তার অন্যতম একটি কমিশন হচ্ছে স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন।
ভারত, ব্রিটেনসহ নানা দেশের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণে আমরা বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির স্থলে সংসদীয় পদ্ধতির স্থানীয় সরকার কাঠামো গ্রহণ করলে এ অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিকতার নামে বাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আদলে প্রতিটি স্থানীয় পরিষদে চেয়ারম্যান ও মেয়র নির্বাচন করে সব প্রতিষ্ঠানে এক একজন একনায়ক সৃষ্টি করা হয়েছে। সে একনায়করা নিজেদের পরিষদ বা কাউন্সিলের চেয়ে বড় করে দেখেছেন এবং সেভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। প্রায় পরিষদের গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, অংশগ্রহণমূলক পরিকল্পনা ও বাজেট পদ্ধতি লঙ্ঘন করেছেন। ফলে স্থানীয় সরকারে গণতান্ত্রিকতা সম্পূর্ণ ভূলুণ্ঠিত হয়। এসব বিষয় বিবেচনা করে একক ব্যক্তি বা পদের বদলে পুরো পরিষদ ও কাউন্সিল ব্যবস্থাকে যৌথভাবে প্রধান ভূমিকায় অবতীর্ণ করার পদ্ধতি সৃষ্টির চিন্তাভাবনা শুরু করা হয়। নির্বাচন ব্যয় সাশ্রয়ী, সময় সাশ্রয়ী ও অধিকতর অংশগ্রহণমূলক হয়। তাছাড়া নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে পারেন।
এখনকার প্রচলিত ব্যবস্থায় একজন ভোটার তিনজন প্রার্থীকে ভোট দেন এবং তিনজনের মধ্যে দায়িত্ব বিভক্ত হয়ে পড়ায় সাধারণ ভোটার বিভ্রান্ত হয়। সংসদীয় পদ্ধতিতে স্থানীয় নির্বাচন করা হলে সব ভোটারের একজন নিজস্ব প্রতিনিধি থাকবেন। তিনি সরাসরি তাকে দায়িত্বশীল ভাবতে পারবেন। ইউনিয়ন উপজেলা ও জেলায় তার সংশ্লিষ্ট সদস্য প্রতিজন ভোটারের কাছে জবাবদিহি করবেন। তাই এ পদ্ধতিতে সদস্য বা কাউন্সিলর নির্বাচনই মুখ্য। যিনি চেয়ারম্যান বা পরিষদের বা কাউন্সিলের অন্য যেকোনো পদ পেতে আগ্রহী তাকে প্রথমেই সদস্যপদে নির্বাচিত হতে হবে। সদস্যরাই সদস্যদের মধ্য হতে চেয়ারম্যান বা মেয়র নির্বাচন করবেন। এটি দেশের জন্য অভিনব নয়। আমাদের জাতীয় সংসদে এটিই নিয়ম। তাছাড়া আমাদের প্রতিবেশী ভারতীয় রাজ্যগুলোর স্থানীয় নির্বাচনে সরাসরি সদস্য নির্বাচন এবং সদস্যদের ভোটে প্রধান ও মেয়র নির্বাচন দীর্ঘদিন ধরে হয়ে আসছে।
সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে হলে নিম্নের চারটি বিষয় যথা—কাজ (Function), কর্মী (functionary), অর্থ-সম্পদ (Fund) ও সিদ্ধান্ত নেয়ার স্বাধীনতা (Freedom) খুবই গরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় সরকারের তার কোনোটিই নেই। যেমন উপজেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের হাতে স্বাস্থ্যবিষয়ক কর্ম, কর্মী ও অর্থ তিনটিই রয়েছে। তেমনিভাবে শিক্ষা, কৃষি, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য, সমাজসেবা, যুব, মহিলা ও শিশু প্রতি ক্ষেত্রে একই অবস্থা। স্থানীয় সরকারি দপ্তর যা করে তার সব কাজের দায়িত্ব নানাভাবে স্থানীয় সরকারকেও দেয়া হয়েছে। কিন্তু কর্ম দেয়া হলেও কর্মী, অর্থ ও স্বাধীনতা দেয়া হয়নি। তাই পুরো বিষয়টি একটি শুভংকরের ফাঁকি হয়ে আছে।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার কার্যকারিতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর তদারকি সংস্থার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার কমিশন গঠনের প্রচলন রয়েছে, যা প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন, উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো একদিকে জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় রক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রশাসনিক জটিলতা, আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও আইনি অস্পষ্টতার কারণে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রায়ই বাধাগ্রস্ত হয়। এ ধরনের সংকট নিরসনে একটি স্থায়ী ও কার্যকর স্থানীয় সরকার কমিশন গঠনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিকেন্দ্রীকরণ এবং সেবার মান বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যেমন নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ, কানাডার নিউ ব্রান্সউইক প্রদেশ এবং ভারতের কেরালা রাজ্য তাদের নিজস্ব প্রশাসনিক কাঠামোর আলোকে স্থানীয় সরকার কমিশন পরিচালনা করে।
জাতীয় নির্বাচন পাঁচ বছরে একবার একটি তফসিলের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সম্ভব হলেও স্থানীয় নির্বাচনগুলো একটি সরকারের পুরো পাঁচ বছর ধরে অন্তত সাতটি বা ততোধিক ভিন্ন ভিন্ন তফসিলে অনুষ্ঠিত হয়। আবার ১২টি সিটি করপোরেশন ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদ শেষে তাদের নির্বাচন অনুষ্ঠান করে। অন্যদিকে ও মামলা-মোকাদ্দমার কারণে স্থগিত নির্বাচনগুলো বিভিন্ন অনির্ধারিত সময়ে তফসিল ঘোষণা দিয়ে অনুষ্ঠান করতে হয়। ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা এ তিনটি নির্বাচনের আয়োজনের বহর ও বিস্তৃতি তিনটি জাতীয় নির্বাচনকেও হার মানায়। অতীতে এ তিনটি নির্বাচনে শতশত মানুষ নিহত এবং হাজার মানুষ আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। এভাবে পৃথক সাতটি নির্বাচন ও নানা সময়ে পৃথকভাবে সিটি নির্বাচন ও স্থগিত নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠান অনেক ব্যয়বহুল, সময়ক্ষেপণকারী ও প্রশাসনিকভাবে জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। একটি সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদের প্রতি বছরই এক বা একাধিক নির্বাচন হতে থাকে। তাতে প্রচুর কর্মদিবস নষ্ট হয়। সারা দেশ নির্বাচনী ডামাডোলে অস্থির ও প্রকম্পিত হয়।
একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২১-২৪ সাল পর্যন্ত পাঁচটি স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনে ২ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে এবং ১৯ লাখ ৬২ হাজার লোকবল নিয়োজিত ছিল। অনায়াসে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের এ ব্যয় ৬০০-৭০০ কোটি টাকায় নামিয়ে এনে ১৯ লাখের বদলে নয় লাখ জনবল নিয়োগ করে স্থানীয় নির্বাচন নির্বাহ করা যায়। নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়কাল পাঁচটি নির্বাচনের তফসিল বিবেচনায় ২২৫ থেকে ৪৫ দিনে নামিয়ে আনা সম্ভব। ৩৬৫ দিনের একটি বছরে আমরা ২২৫ দিন শুধু অর্থহীন নির্বাচনে ব্যয় করে থাকি। নির্বাচন কমিশনকে বিভিন্ন সময়ের স্থানীয় নির্বাচনের জন্য ১৫-২১টি বিধি ও আচরণবিধিমালা তৈরি করতে হয়। এখানে যথাযথ সংস্কার হলে এক বা দুটি বিধিমালার মাধ্যমে সব স্থানীয় নির্বাচন সম্পন্ন হতে পারে। সরকারি কারিকর্তা ও সরকারের অনেক সময় সাশ্রয় হতে পারে।
আমাদের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় একদিকে গ্রামীণ পর্যায়ে একটি ত্রিস্তরীয় কাঠামো (ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ), অন্যদিকে নগরে একটি দ্বিস্তরীয় সংগঠন কাঠামো (পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন) বিদ্যমান। এসব প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন হয়, কিন্তু গণতন্ত্রের চর্চা প্রশ্নবিদ্ধ। আইনত কাজের তালিকা আকর্ষণীয় কিন্তু কাজ করা হয় আইনের বাইরে। আইনে যা যেভাবে করতে বলা আছে, তা সেভাবে হয় না। অন্য অনেক কাজ হয়, যা নিয়মনীতি বহির্ভূত। বিরাজিত আইন ও সংগঠন কাঠামো সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে দ্বন্দ্ব সংঘাত ও অস্বচ্ছতা।
ভবিষ্যতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোয় গণতান্ত্রিক একটি পরিবেশ বজায় রাখা, একক ক্ষমতা চর্চার পথরুদ্ধ করে পরিষদে ও কাউন্সিলে সবার অংশগ্রহণের প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকা নিশ্চিত করা এবং নেতা নির্বাচন ও নেতৃত্ব চর্চায় ভারসাম্য আনয়ন একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়। সংগঠন কাঠামো গণতন্ত্রায়নের পাশাপাশি আর একটি বিষয়ে মনোযোগী হতে হবে। তা হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন রাজনৈতিক প্রয়োজনে বিভিন্ন স্তরে যে অসাঞ্জস্যপূর্ণ সংগঠন কাঠামো সৃষ্টি করা হয়েছে, সেগুলোর একটি যৌক্তিক অভিন্ন রূপ-কাঠামো তৈরি করা। যাতে আন্তঃপ্রতিষ্ঠান কার্যকর সম্পর্ক সৃষ্টি করা যায়।
বর্তমানে উপজেলা পরিষদে কোনো ওয়ার্ড নেই। উপজেলায় ওয়ার্ড সৃষ্টি ইউনিয়নের মতো এত জটিল ও কঠিন হবে না। ছোট ও মাঝারি সব ইউনিয়ন উপজেলা পরিষদের তিনটি ওয়ার্ড বা নির্বাচনী এলাকায় বিভক্ত হবে। ব্যতিক্রমী বড় ইউনিয়নের ক্ষেত্রে পাঁচটি ওয়ার্ডেও সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। আবার একইভাবে প্রতিটি উপজেলাও জেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য তিন-পাঁচটি ওয়ার্ডে বিভক্ত হতে পারে। জেলা ও উপজেলার ওয়ার্ডগুলো শুধু নির্বাচনে ব্যবহার হবে। এ ওয়ার্ডগুলোয় ওয়ার্ড সদস্যদের কোনো নির্বাহী দায়িত্ব থাকবে না। কারণ ওই এলাকাগুলোর সবকিছু ইউনিয়ন পরিষদই দেখাশোনা করবে। এ তিনটি পরিষদের একটি সাধারণ সংগঠন কাঠামো থাকবে। এ সংগঠন কাঠামোর দুটি প্রধান অংশ থাকবে, একটি বিধানিক অন্যটি নির্বাহী। নাগরিক অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এটি নীতিনির্ধারণকে আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক করবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে নাগরিক ফোরাম গঠন করে স্থানীয় সিদ্ধান্তে তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে। পাবলিক হিয়ারিং সেশন: মাসিক পাবলিক হিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নাগরিকদের মতামত নিতে হবে। তরুণদের নগর উন্নয়ন পরিকল্পনায় যুক্ত করতে যুব উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করতে হবে।
সংস্কার কমিশন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থানীয় প্রশাসনের সমান্তরাল একটি পৃথক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরঞ্চ ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলায় সমন্বিত প্রশাসনিক কাঠামোর অঙ্গীভূত একক কাঠামো হিসেবে দেখতে চায়। সে একক কাঠামোগত পরিবর্তন এ সংস্কারের মৌলিক অবদান হিসেবে বিবেচনার দাবি রাখে। তাতে তৃণমূল থেকে জেলাস্তর পর্যন্ত স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক একটি স্মার্ট প্রশাসন গড়ে উঠতে পারে। এ প্রশাসন হবে লক্ষ্য অভিমুখী, ব্যয় সাশ্রয়ী, অপচয়রোধী সত্যিকারের জনসম্পৃক্ত একটি প্রশাসন ব্যবস্থা। বিকেন্দ্রীকরণ হবে এ প্রশাসন কাঠামোর একটি সৃজনশীল বিকাশ ও সক্ষমতা সৃষ্টির প্রধান অবলম্বন। এ বিকেন্দ্রীকরণ ‘বিগ ভেঙ্গ’ তত্ত্বে একসঙ্গে নয়, ধীরে ধীরে প্রয়োজন ‘ট্রায়াল অ্যান্ড এরর’ পদ্ধতিতে ধারাবাহিকভাবে করা যাবে। তবে কোথাও থেমে থাকলে চলবে না।
একটি দেশ ও সমাজে কার্যকর স্থানীয় সরকার তৃণমূল থেকে গণতন্ত্রকে সুসংহত করে। সাধারণ মানুষ সুশাসনের অংশীদার হয়। উন্নয়ন ও সেবা ব্যয় সাশ্রয়ী এবং গুণ ও মান সম্পন্ন হয়। স্থানীয় সরকার স্থানীয় জনগণের জন্য গণতন্ত্র চর্চার প্রাথমিক ও মধ্যম স্তরের পাঠশালা। এখানে গণতন্ত্রচর্চা জাতীয় গণতন্ত্রকে সুসংহত করে। সবকিছু মিলিয়ে একটি স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণের জন্য রাষ্ট্র ও সরকারের উপব্যবস্থা হিসেবে স্থানীয় সরকারের অপরিহার্যতা অনস্বীকার্য।
ড. মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম: অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়; ভিজিটিং প্রফেসর, অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ ও হার্ভার্ড ও সদস্য, স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন